শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

৩৩৮টি প্রতিষ্ঠান পাবে অগ্রাধিকার 

মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে যাবে  ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৪:১১, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে যাবে  ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে ১০ হাজার কর্মী সম্পূর্ণ বিনা খরচে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ৩৩৮টি জনশক্তি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মালয়েশিয়া বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার  বর্তমান সরকার বন্ধ বা সীমিত বিদেশি শ্রমবাজার পুনরায় চালু ও সম্প্রসারণে উদ্যোগ নিয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে মালয়েশিয়াকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড, ২৫টি বেসরকারি কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াকরণ বা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং ৩১২টি বেসরকারি জনশক্তি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হবে। সব মিলিয়ে সংখ্যা ৩৩৮টি।
তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো মালয়েশিয়ায় নিয়োগকর্তা খুঁজে চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ, বাংলাদেশ থেকে কর্মী বাছাই এবং নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।
২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বরের সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন ও তালিকাভুক্তির বিধান রয়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে যাচাই শুরু হয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ৪২৩টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়।
পরে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি এগিয়ে নেওয়া হয়; প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রথম সরকারি বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়টি আলোচনা করেন।
যেভাবে সম্পন্ন হবে নিয়োগপ্রক্রিয়া
মালয়েশিয়ার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলো চাহিদাপত্র সংগ্রহ ও কর্মী নির্বাচন করবে।
এরপর কাজের অনুমতিপত্রসহ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং তালিকাভুক্ত ২৫টি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সহায়তা করবে।
মালয়েশিয়ায় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী পরবর্তী কাজ করবে।
প্রতিটি অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অনুমোদনের আওতায় জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ছাড়পত্র নিতে পারবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ২৫টি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র দেবে।
স্বচ্ছতা নিশ্চিত, অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং কর্মীদের আর্থিক চাপ থেকে সুরক্ষায় সরকার নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইন মেনে কাজের নির্দেশ দিয়েছে।
স্বাস্থ্য পরীক্ষার কেন্দ্রের তালিকা চূড়ান্ত করবে দুই দেশ
মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার অনুমোদিত কেন্দ্রের তালিকা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সমঝোতা অনুযায়ী দুই দেশের সরকার এ তালিকা নির্ধারণ করবে। মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে সরেজমিন পরিদর্শনের পর চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে।
শ্রমবাজার দ্রুত চালুর জন্য বিতর্কিত ও অনিয়মে জড়িত কেন্দ্র বাদ দিয়ে বর্তমান অনুমোদিত তালিকার অবশিষ্ট কেন্দ্রগুলো দিয়ে কার্যক্রম শুরু হবে।
পরে নতুন কেন্দ্র যুক্ত করে সংশোধিত তালিকা প্রকাশ করা হবে। বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ মালয়েশিয়ার ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত কেন্দ্রগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে এবং অনিয়ম হলে কার্যক্রম বন্ধ করবে। আগ্রহী কর্মীদের অনুমোদিত নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োগ সম্পন্ন ও অনুমোদিত কেন্দ্রে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে।
কোনো একক কেন্দ্রকে সব কর্মীর পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।
সরকার এ উদ্যোগকে দুই দেশের শ্রম সহযোগিতার নতুন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে সবাইকে সুযোগটি কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছে।
 

শেয়ার করুন: