ছবি: সংগৃহীত
রেকর্ড সংখ্যক ২২ লাখ নিউইয়র্কবাসী অর্থাৎ প্রতি চারজনের মধ্যে একজনের বেশি দারিদ্র্যের মধ্যে জীবনযাপন করছেন বলে সর্বশেষ প্রকাশিত ‘পাভার্টি ট্র্যাকার’ প্রতিবেদনে জানা গেছে।
নিউ ইয়র্ক (১০১০ উইনস) প্রকাশিত সর্বশেষ ‘পাভার্টি ট্র্যাকার’ প্রতিবেদন অনুসারে, রেকর্ড ২২ লাখ নিউইয়র্কবাসী দারিদ্র্যের শিকার।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, টানা তৃতীয় বছরের মতো দারিদ্র্যের হার বেড়েছে। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এই হার ২৫% থেকে বেড়ে ২৬% এ দাঁড়িয়েছে। এই সংখ্যাটি জাতীয় গড় হারের (১৩%) তুলনায় দ্বিগুণ।
২০১৫ সালে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং দারিদ্র্য বিমোচন সংস্থা ‘রবিন হুড’ যখন থেকে শহরের সাধ্যের বাইরে চলে যাওয়া জীবনযাত্রার প্রভাব নিয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে, তারপর থেকে এটিই দারিদ্র্যের সর্বোচ্চ রেকর্ড।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে ১৭ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক (২৫%) এবং প্রায় ৪,৫০,০০০ শিশু (২৭%) রয়েছে। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সেন্টার অন পাভার্টি অ্যান্ড সোশ্যাল পলিসি’-র গবেষণা পরিচালক সোফি কলিয়ার নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘২০২৪ সালের বড় শিক্ষাটি হলো, নিউ ইয়র্ক সিটিতে অর্থনৈতিক কষ্টই এখন সাধারণ নিয়মে পরিণত হয়েছে।’
গবেষণাটি ৩,০০০ পরিবারের খাদ্য, বাসস্থান এবং ইউটিলিটি বিলের মতো মৌলিক চাহিদার ওপর নজর রেখেছে। এতে দেখা গেছে, শহরের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ এমন পরিবারে বাস করেন, যারা অন্তত এক ধরণের বস্তুগত সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
রবিন হুড-এর সিইও রিচার্ড আর. বিউরি জুনিয়র বলেন, ‘মাথার ওপর ছাদ থাকা বা টেবিলে খাবার জোগাড় করা মৌলিক বিষয়। এটা মনে রাখা জরুরি যে, ইউটিলিটি বিলের মতো বিষয়গুলো কোনো বিলাসিতা নয়।’
বিউরি আরো জানান, সরকারি সহায়তাও এখন আরো সংকুচিত হতে যাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, এই মাস থেকেই ‘স্ন্যাপ’ (খাদ্য সহায়তা) কর্মসূচির জন্য কাজের নতুন যোগ্যতার শর্তাবলী কার্যকর হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এই মাস থেকেই আপনাকে প্রমাণ করতে হবে কেন আপনি স্ন্যাপ সহায়তার যোগ্য।’
গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে, এ ধরণের সরকারি বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ার ফলে আরো হাজার হাজার মানুষ গরিবির মুখে পড়তে পারেন।

















