ছবি: সংগৃহীত
মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে গত শনিবার একটি প্যানেল আলোচনা চলাকালীন চেক প্রজাতন্ত্রের উপ-প্রধানমন্ত্রী পেত্র মাসিনকা এবং হিলারি ক্লিনটনের মধ্যে একটি বিতর্ক হয়। এটি বর্তমানে ভাইরাল। বিশেষ করে জেন্ডার বা লিঙ্গীয় রাজনীতির মতো বিষয়গুলোতে মাসিনকা মনে করেন, পাশ্চাত্য অনেক বেশি বাড়াবাড়ি করে ফেলেছে। নিচে হিলারি এবং পাশ্চাত্যের জন্য মাসিনকা তার পরবর্তী পরামর্শগুলো তুলে ধরেছেন :
আমি যখন হিলারি ক্লিনটনের সাথে একটি প্যানেলে বসেছিলাম, তখন এটা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল যে আমরা কেবল ভিন্ন ভিন্ন নীতি নিয়ে বিতর্ক করছি না; আমরা আসলে দুটি ভিন্ন বাস্তবতা থেকে কথা বলছিলাম।
হিলারি ক্লিনটনকে সত্যের সামনে অস্বস্তিতে দেখাচ্ছিল। এবং তার এমনটা হওয়াই উচিত ছিল। তার সাথে আমার কথোপকথনটি ভাইরাল হয়েছে এই কারণে নয় যে এটি কোনো উস্কানি ছিল। বরং এটি এমন একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে ‘রিয়েলিটি চেক’ (বাস্তবতার মুখোমুখি করা) দিয়েছে যারা পথ হারিয়ে ফেলেছে।
এমন একটি জাতির উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবে, যারা ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সোভিয়েত-সমর্থিত কমিউনিজমের কবলে ছিল, আমি সমাজতান্ত্রিক ক্ষমতার লালসা এক মাইল দূর থেকেই চিনতে পারি। চেকবাসীরা সাধারণ কা-জ্ঞানের ওপর বাজি ধরছে। কারণ আমরা এর বিকল্প (কমিউনিজম) দেখেছি।
এই প্রেক্ষাপটে, মিউনিখে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সভ্যতাবিষয়ক বক্তব্যটি ছিল অসাধারণ। আমি তার প্রতিটি শব্দের সাথে একমত, বিশেষ করে শূন্যগর্ভ বিশ্বায়নের পরিবর্তে অভিন্ন ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে জোট গঠনের যে আহ্বান তিনি জানিয়েছেন, তা অনবদ্য।
পাশ্চাত্যকে টিকিয়ে রাখার জন্য এখানে কিছু পরামর্শ দেওয়া হলো :
১. পাশ্চাত্যের সংকটের জন্য ট্রাম্পকে দোষ দেওয়া বন্ধ করুন
ডোনাল্ড ট্রাম্প পাশ্চাত্যকে ‘ভেঙে’ দেননি। বরং রাজনৈতিক অভিজাত শ্রেণী এবং সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে তৈরি হওয়া গভীর ও বেদনাদায়ক দূরত্বের কারণে যে পচন শুরু হয়েছিল, তিনি কেবল তার প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। যখন লাখ লাখ মানুষ প্রচলিত ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের জন্য ভোট দেয়, তখন সেটি ‘ভোটারদের ব্যর্থতা’ নয়। এটি হলো এস্টাব্লিশমেন্ট বা নীতি-নির্ধারকদের একটি ঐতিহাসিক ব্যর্থতা, এবং গণতন্ত্র এখানে তার বিশুদ্ধতম রূপে নিজেকে প্রকাশ করেছে।
২. ‘জাতীয়তাবাদ’-এর কারণে পাশ্চাত্য ধ্বংস হচ্ছে না
পাশ্চাত্য ধ্বংস হচ্ছে কারণ এটি বাস্তবতার সাথে সম্পর্ক হারিয়ে ফেলেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও যেমনটা সঠিকভাবে বলেছেন, সেনাবাহিনী কোনো বিমূর্ত ধারণার জন্য লড়াই করে না। তারা লড়াই করে একটি জনগোষ্ঠী, একটি জাতি এবং একটি জীবনধারার জন্য। আমাদের ঐক্যের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি জাতীয় সার্বভৌমত্ব নয়। বরং বাস্তবতার বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সেই যুদ্ধ যা সেইসব মানুষ পরিচালনা করছেন, যারা বিশ্বাস করেন যে সরকারি অফিসে বসে মানুষের প্রকৃতিকে নতুন করে নকশা করা সম্ভব।
৩. জোট গড়তে হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর, ‘পুনঃশিক্ষা’র ওপর নয়
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আমি স্বাভাবিকভাবেই একটি শক্তিশালী আটলান্টিক সম্পর্ক ও শক্তিশালী ন্যাটো চাই। মধ্য ইউরোপ যুদ্ধের মূল্য বোঝে। কিন্তু আমাদের অবশ্যই জাতীয় সার্বভৌমত্বকে অন্তঃসারশূন্য করা এবং সেইসব আমলার হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা বন্ধ করতে হবে যারা কোনো গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট ছাড়াই নিয়ম-নীতি চাপিয়ে দেয়। প্রকৃত অংশীদাররা একে অপরের সার্বভৌমত্বকে শ্রদ্ধা করে। তারা এটিকে ‘ঠিক’ করার চেষ্টা করে না।
৪. ‘ওক রেভোলিউশন’কোনো পররাষ্ট্রনীতি হতে পারে না
যখন কূটনীতি হার্ড সিকিউরিটি বা কঠিন নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থের বদলে জেন্ডার থিওরি, জলবায়ু ভীতি এবং পরিচয়বাদী রাজনীতিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, তখন আমাদের পরাজয় নিশ্চিত। মস্কো বা বেইজিংয়ে আমাদের শত্রুরা বৈচিত্যের কোটা নিয়ে ভাবিত নয়; তারা আমাদের দুর্বলতা নিয়ে ভাবিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সবুজ মতাদর্শ বা গ্রিন আইডিওলজি একটি নীতিগত বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে একটি ধর্মনিরপেক্ষ ধর্মের রূপ নিতে শুরু করেছে।
৫. গণতন্ত্র মানে ফলাফলকে সম্মান করা
প্রতিটি রক্ষণশীল বিজয়কে ‘গণতন্ত্রের জন্য হুমকি’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া এখন বন্ধ করার সময় এসেছে। ভোটাররা যদি এমন একটি সরকারকে বেছে নেয় যারা সুরক্ষিত সীমান্ত এবং ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধকে প্রাধান্য দেয়, তবে সেটিই কার্যকর গণতন্ত্র। মানুষ তাদের পছন্দমতো ‘সঠিক’ প্রার্থীকে বেছে নেয়নি বলে জনগণের ইচ্ছাকে প্রত্যাখ্যান করাই হলো সবচেয়ে বড় অগণতান্ত্রিক মানসিকতা।

















