শনিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৩

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

মুসলিম হলিডে ক্যাম্পেইনের ঈদে মীলাদুন্নবী উদযাপন 

নবযুগ ডেস্ক

আপডেট: ১০:৩৮, ১২ নভেম্বর ২০২২

মুসলিম হলিডে ক্যাম্পেইনের ঈদে মীলাদুন্নবী উদযাপন 

ছবি সংগৃহীত

উত্তর আমেরিকায় চলমান মুসলিম হলিডে ক্যাম্পেইনের ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ঈদে মীলাদুন্নবী (স.) এর আয়োজন করা হয়। প্রতি বছর দিবসটি উদযাপন করা হলেও ক্যাম্পেইনের ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে এ বছর ঈদে মীলাদুন্নবী পালন করা বেশ বড় পরিসরেই।

উন্মুক্ত সংস্কৃতির এ দেশে ৪ জুলাইর স্বাধীনতা দিবস ও ২৫শে ডিসেম্বরের বড়দিন ছাড়াও বিভিন্ন ধর্ম বর্ণের বিভিন্ন দিবস পালিত হয়ে থাকে।

যতগুলো দিক থেকে আমেরিকা একটি মহান দেশ, তার মধ্যে এটি একটি অন্যতম কারন। এ কথা বলার অবকাশ রাখে না যে, ইসলাম ধর্মের পরিচয় ইসলামের নবী মোহাম্মদকে (সা.) দিয়েই। যাকে ¯্রষ্টা শুধু মুসলমানদের জন্যই দয়া, রহমত ও শান্তির পরিচায়ক হিসেবে পাঠাননি, বরং কোরানের কথায় সারা বিশ্বের জন্য তাকে দয়া ও রহমত স্বরূপ পাঠানো হয়েছে। ‘ওয়ামা আরসালনাকা ইল্লা রাহমাতাল লিল আলামীন’ বলে এই ঘোষণাই তিনি তার পবিত্র কোরানে দিয়েছেন।

মানুষের বুদ্ধি বিবেচনা ও জ্ঞান গভীরতার উপর তিনি তা ছেড়ে দিয়েছেন। সেজন্য এতে আশ্চর্যান্বিত হবার কিছুই নেই, যদি কোন অমুসলিম কোরান পড়ে ও গবেষণা করে সত্য উদঘাটন করে তা মানবতার কল্যাণে লাগান। যেমনটি ঘটেছে মাইকেল এইচ হার্ট, মরিস বুখাইলি, প্রফেসর কীথমূর ও ক্যাসিয়াস ক্লে সহ লক্ষ লক্ষ নও মুসলিমের ক্ষেত্রে। অপর দিকে ইসলামের নামে বিবিধ সামাজিক ও মানবিক কর্মকান্ডের আড়ালে গজে ওঠা প্রত্যক্ষ ভাবে পেট্রো ডলারে পরিচালিত ওয়াহাবী মতবাদের ইখওয়ানী, আলশাবাব, বকোহারামী, মওদুদী, জাকির নায়েক ও তাদের অনুসারীরা কোরান হাদীসের অপব্যাখ্যায় সিংহ ভাগ মুসলমানদেও গোমরাহ ও পথভ্রষ্ট করে চলেছে, যার কোন ইয়ত্তা  নেই। 

এ কথা নবী মোহাম্মদও (সা) বহু আগে ইসলাম প্রতিষ্ঠাকালে (৬৩২ সনে) বলে গিয়ে বিশ্ববাসীকে সাবধান করে দিয়েছেলন। যে শুধু  লেবাস, একটিভিটিস ও ভেশভূষা দেখে কারো জালে আটকে যাবে না। যাচাই বাছাই করে নিবে যে, সে বা তারা তো ওসব গোমরাহ দল বা ব্যক্তির সাথে সম্পৃক্ত নন, যারা বলে, ঈদে মিলাদুন্নবী, শবে বরাত, শবে  মেরাজ, মুহর্রম ও আশুরা, ঈসালে সাওয়াব, ফাতেহা ও কুলখানি, আউলিয়াদের প্রতি ভক্তি ইত্যাদি আল্লাহর রহমতি আমল সমূহকে উৎসাহিত করেন না বরং সুযোগ পেলেই এসব আমলকে শিরিক ও  বেদাতের ফতোয়ার আঘাতে ধরাশায়ী করেন। সেজন্যই নবী মোহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা) এদেও থেকে সাবধান থাকতে বলে গিয়েছেন, ‘আমার উম্মাতের মধ্যে ৭৩ দল হবে, এদের মধ্যে ৭২টি দল যাবে নরকে আর মাত্র একটি দল যাবে বেহেশতে’...! সুতরাং তাজ্জব হবার কিছুই নেই।

উল্লেখ্য, ২০১২ সনে আমেরিকার-নিউইয়র্কের জ্যাকসনহাইটসে অবস্থিত  মোহাম্মদী সেন্টারের (স্থাপিত ২০০৫ ইং) মাধ্যমে যখন আমরা ঈদে মীলাদুন্নবীতে ফেডারেল হলিডে ক্যম্পেইন শুরু করি, তখন এদের কিছুটা উৎপাত আমরা আমেরিকায় দেখেছি। সুতরাং এদের বিচরণ সব জায়গায় সব সময়ই থাকবে, এটাই স্বাভাবিক এবং এতে বিচলিত হবার  কোনো কারন নেই। বস্তুত, আমেরিকা এর সুপ্রিম কোর্টের সম্মূখ দেয়ালে নবী মোহাম্মদকে (সা) তার কাল্পনিক নমূনা একে ‘ওয়ান অব দ্য গ্রেটেষ্ট ল’ গিভারস অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ অর্থাৎ মোহাম্মদ (সা) বিশ্বের একজন শ্রেষ্ঠ আইন প্রণেতা, এই খেতাব দিয়ে সম্মানিত করে রেখেছে সেই ১৯৩৫ সন থেকেই। অমত ব্যক্ত করে এর প্রতিবাদ করার ক্ষমতা আজো কারো হয়নি।  শুধু তাই নয়, আমেরিকা এই দেশের একজন মহা মানবকেও তার বর্ণ বৈষম্য আন্দোলনের জন্য তার নামে তার জন্মদিনে ফেডারেল হলিডে ঘোষণা করে তার ও তার আদর্শের প্রতি সম্মান দেখিয়েছে। তিনি হলেন সিভিল রাইট একটিভিষ্ট মার্টিন লুথার কিং। তিনি আমেরিকার সীমাতিরিক্ত বর্ণবাদী আচরণকে ইভিল বা শয়তানী কাজের সাথে তুলনা দিয়ে এ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে যে আন্দোলন শুরু করেন, এর সফলতা দেখা যায় আততায়ীর হাতে তার জীবনাবসানের মধ্য দিয়ে।

ক্ষণজন্মা এই মানবের জন্ম হয়েছিল ১৯২৯ সনের জানুয়ারি মাসে, এবং মৃত্যু ১৯৬৮ সনে। তার মৃত্যুর পর থেকেই তার জন্ম মাসে একটি  ফেডারেল হলিডে চেয়ে আমেরিকা জুড়ে শুরু হয় ক্যাম্পেইন। অবশেষে বিভিন্ন চড়াই উৎরাই পার হয়ে দীর্ঘ ১৮ বছর পর ১৯৮৬ সনে আমেরিকার জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান, (যিনি একই বৎসর আমেরিকায় সাধারণ ক্ষমা বা এ্যামনেস্টিও ঘোষণা দিয়ে  লাখো অবৈধকে আমেরিকায় বৈধ ভাবে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়ে জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলেন) মার্টিন লুথার কিং এর নামে আমেরিকায় ফেডারেল হলিডের মন্জুরী ঘোষণা করেছিলেন। আমেরিকায় অবস্থিত ৩.৪৫ মিলিয়ন মুসলমানের ও বিশ্ব মানবতার নবী মোহাম্মদের (সা)  জন্মদিন ‘ঈদে মিলাদুন্নবীতে’ ফেডারেল হলিডে চাওয়ার আমাদের কথা হলো এই, বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে মার্টিন লুথারের বহু আগে এমনকি সর্বাগ্রে যিনি আওয়াজ তুলেছেন, তিনি হলেন নবী মোহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। ৬৩২ সনে তার ইসলাম প্রতিষ্ঠার ঘোষণার এক পর্যায়ে তিনি বলেছিলেন, ‘ফালাইসা লিআরাবিয়্যুন আলা আজামিয়্যিন ফাদলুন, ওয়ালা লিআজামিয়্যিন আলা আরাবিয়্যিন, ওয়ালা লিআসওয়াদা আলা আবইয়াদা, ওয়ালা লিআবইয়াদা আলা আসওয়াদা ফাদলুন, ইল্লা বিত তাক্বওয়া’।

অর্থাৎ আরবের উপর অনারবের কিংবা অনারবের উপর  কোনো আরবের, শ্বেতাঙ্গের উপর কোন কৃষ্ণাঙ্গের অথবা কৃষ্ণাঙ্গের উপর  কোন শ্বেতাঙ্গের আধিপত্য নেই। সততা ও মানবতার উপর প্রতিষ্ঠিত  খোদা ভীতির ভিত্তিতেই মানবীয় গুণের পরিমাপ যাচাই বাছাই করা হবে। (৯ই জিলহজ/১০ হিজরী, মোতাবেক ৬ই মার্চ ৬৩২ খৃষ্টাব্দ) সুতরাং মানবতার কল্যাণে একই ভূমিকায় যদি মার্টিন লুথারের জন্মদিনে আমেরিকায় ফেডারেল হলিডে হতে পারে, তবে নবী মোহাম্মদের জন্মদিনেও ‘এপ্রিলের শেষ সোমবার’ (মোতাবেক ১২ই রবীউল আউয়াল ৫৭০ খৃস্টাব্দ) আমরা ফেডারেল হলিডে দাবী করতেই পারি।

শেয়ার করুন: