মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ভক্ত ও উত্তেজনার ইতিহাস 

মেসবাহ শিমুল, ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ২১:১৯, ১৮ নভেম্বর ২০২২

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ভক্ত ও উত্তেজনার ইতিহাস 

ঢাকার চিঠির লেখক: মেসবাহ শিমুল

আগামী রবিবার শুরু হচ্ছে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ খ্যাত বিশ্বকাপ ফুটবল। বিশ্বের উষ্ণতম দেশ কাতারের এই আয়োজনকে ঘিরে ঢাকা তথা বাংলাদেশও কম উত্তপ্ত নয়। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দুই দল ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা ভক্তদের নানা কান্ড-কাহিনীতে এখন রীতিমত যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। এই যুদ্ধ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেমন তেমনি কোথাও কোথাও সরাসরিও হচ্ছে। চলছে ডিজিটাল নানা কন্টেন্ট বানানোর পাশাপাশি আক্রমনাত্মক নানা স্ট্যাটাস। 

রাজধানী শহরতো বটেই দেশের বিভিন্ন শহরে-বন্দরে-গ্রামে এই দুই দলের ভক্তদের মিছিল, শোডাউন দেখলে আসলেই মনের ভেতর এক অন্যরকম উন্মাদনার ঢেউ খেলা করে। অতীতেও এমন উন্মাদনা ছিলো। ভবিষ্যতেও থাকবে। খেলার ভেলকিতে যদি কোনোদিন এই দেশদুটি আর সেই উন্মাদনা ধরে রাখতে নাও পারে তবুও আমাদের মতো ভক্তদের সেই উন্মাদনা থেকে যাবে। 

আলোচনা হচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে। চায়ের কাপে ঝড় উঠছে। ফেসবুকে টানটান উত্তেজনা। ফানি ভিডিওতে ভরে গেছে ফেসবুকের টাইমলাইন। এ যেন মাঠ নয় খেলা হচ্ছে ফেসবুকেই। আর সেই খেলার আয়োজক দেশ কাতার নয় বাংলাদেশ। সেখানে গ্যালারির নাম ফেসবুক। যাতে ফেসবুকীয় দর্শকরা হৈ হুল্লোড় আর উত্তেজনাময় মুহূর্ত পার করছো। 

ঢাকায় জাতীয় নির্বাচন নিয়েও আলোচনা চলছে। বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি আগামী ১০ ডিসেম্বরের ঢাকা মহাসমাবেশকে সামনে রেখে রাজনীতিতে এ ধরণের উত্তেজনাকর অবস্থা বিরাজ করছে। ঠিক যেন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মতো সরকার এবং বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরণের উত্তেজনা বিরাজ করছে। অবশ্য এই উত্তেজনা কখনো কখনো বিরোধী দল ছেড়ে নিজ দলের মধ্যেও দেখা মিলছে। সম্প্রতি সুনামগঞ্জের একটি উপজেলায় সরকার দলীয় একটি অনুষ্ঠানে উত্তেজনার এক পর্যায়ে চেয়ারযুদ্ধ হয়েছে। সেখানে কেন্দ্রীয় নেতারাও মাথার ওপর চেয়ার রেখে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেছেন। 

এই উত্তেজনা চলছে ঢাকার কূটনীতিক পাড়ায়ও। সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত দেশের নির্বাচন নিয়ে তার দেশের প্রত্যাশার কথা ব্যক্ত করার পর তা সরকারকে বেশ উত্তেজিত করেছে। এই উত্তেজনায় সেই রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কড়া ভাষায় নাকি প্রতিবাদও জানিয়েছে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রক। মন্ত্রণালয় বলছে, নির্বাচন দেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যু। এটি নিয়ে বন্ধু রাষ্ট্রের উদ্বেগ কিংবা উত্তেজনা দেখানোর কিছু নেই। তাদের উত্তেজনা হলে সেটি চেপে রেখে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক সামনে এগিয়ে নেওয়াই কূটনৈতিক শিষ্টাচার। 

অবশ্য এই উত্তেজনা জাপানের একার নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পুরো পশ্চিমা বিশ্বই অনুভব করছে। মাঝে মাঝে মিডিয়ার কল্যাণে তার কিছুটা আমরা আঁচ করতে পারছি। জানিনা সরকার তাদের উত্তেজনাকে কিভাবে দেখবে। তবে এটা ঠিক যে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আদতেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই উত্তেজনার কারনে অতীতের দুটি সাধারণ নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় সামনের নির্বাচন করা সম্ভব হবে না বলেও মনে করছেন অনেকে। সেটি হলে সত্যিই এই উত্তেজনাকর আবহ একটি কার্যকর উত্তেজনা হিসেবে ইতিহাসে স্থান পাবে।
 

শেয়ার করুন: