ছবি: সংগৃহীত
ওয়াল স্ট্রিটের বোনাসের ছড়াছড়ি হ্যাম্পটনসে রেকর্ড পরিমাণ বিক্রিতে জ্বালানি জোগাচ্ছে। রিয়েলটররা মিডিয়াকে জানিয়েছে, গত বছর এই ছোট্ট অভিজাত এলাকায় বাড়ির গড় দাম ৩৩.৬% বেড়েছে।
রাজ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা (স্টেট কম্পট্রোলার) থেকে যখন পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল যে অর্থলগ্নিকারীদের বছর শেষের বোনাস রেকর্ড ৬০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে, তখনই এই ‘ফ্যাট ক্যাট’ বা ধনী ব্যক্তিরা সমুদ্রতীরবর্তী বিশাল এস্টেট এবং উইকএন্ড রিট্রিটগুলোর পেছনে দুহাতে টাকা খরচ করতে শুরু করেন।
রিয়েল এস্টেট পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মিলার স্যামুয়েল-এর সিইও জোনাথন মিলার মিডিয়াকে বলেন, গত দুই বছরে ওয়াল স্ট্রিটে রেকর্ড পরিমাণ পারিশ্রমিক ও মুনাফা এই পূর্ব দিকের (ইস্ট এন্ড) মূল চালিকাশক্তি। হ্যাম্পটনসের ভাগ্য ওয়াল স্ট্রিটের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে।
উইলিয়াম রাভেইস-এর ম্যানেজিং পার্টনার জুডি ডেসিডেরিও জানান, হ্যাম্পটনসের ক্রেতাদের ৫০ শতাংশের বেশিই আর্থিক খাতের লোক। তাদের কারণেই ২০২৫ সালে মোট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬.২ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ২৫.৬% বেশি।
অ্যাপরাইজার মিলার স্যামুয়েল এবং ডগলাস এলিম্যানের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে গড় বিক্রয়মূল্য প্রায় ৩৫ লাখ ডলারে পৌঁছেছে।
ব্রোকাররা জানিয়েছেন, একটি শান্ত গ্রীষ্মের পর নভেম্বর থেকে ইস্ট হ্যাম্পটন, সাউদাম্পটন এবং স্যাগ হারবারের মতো অভিজাত এলাকাগুলোতে বিক্রি বাড়তে শুরু করে। কারণ ঠিক ওই সময়েই অর্থলগ্নিকারীরা তাদের রেকর্ড বোনাস সম্পর্কে জানতে পারেন। নিউ ইয়র্ক স্টেট কম্পট্রোলার ডিনাপোলির তথ্যমতে, গড় সিকিউরিটিজ বোনাস ২ লাখ ৪৪ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে এবং মোট বার্ষিক গড় বেতন দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৩০ ডলার, যা নগরীর স্বাভাবিক বেতনের চেয়ে প্রায় পাঁচগুণ বেশি।
ডগলাস এলিম্যানের এজেন্ট মাইকেল ব্রেনান বলেন, হঠাৎ করে বছরের শেষের দিকে মানুষজন তাঁদের বোনাসের অংক জানতে পারল। নভেম্বর, ডিসেম্বর এবং জানুয়ারি, এই মাসগুলোতে আমরা এখানে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে তার গ্রাহকদের অর্ধেকই আর্থিক খাতের।
তিনি আরও যোগ করেন, এখনো অনেক টাকা মানুষের হাতে আছে। মহামারির পর মানুষ বুঝতে পারছে যে এখানে বাড়ির সরবরাহ খুবই সীমিত।
মিলার স্যামুয়েল-এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের শেষ তিন মাসে হ্যাম্পটনসে মাত্র ১,০৭০টি বিক্রয়যোগ্য বাড়ির তালিকা ছিল, যা ২০২৪ সালের তুলনায় মাত্র ০.৬% বেশি।
এদিকে, উইলিয়াম রাভেইস-এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ২ কোটি ডলার বা তার বেশি দামি সম্পত্তির বিক্রি ৫৯% বেড়ে ২৭টি ডিল-এ দাঁড়িয়েছে। এটি আগের বছর ছিল ১৭টি। এছাড়া ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি ডলারের মধ্যে ২০৯টি লেনদেন এবং ১ কোটি থেকে ২ কোটি ডলারের মধ্যে ৭৭টি লেনদেন হয়েছে।
কম দামি বাড়িগুলো যেন ‘সমুদ্রে হারিয়ে গেছে’ উল্লেখ করে ডেসিডেরিও আক্ষেপ করেন যে শিক্ষক ও নার্সের মতো অপরিহার্য কর্মীরা দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে ছিটকে পড়ছেন। গত বছর ১০ লাখ ডলার বা তার কম দামের বাড়ির বিক্রি ছিল ৩৪১টি, যা আগের বছরের চেয়ে ৯% কম। ডেসিডেরিও বলেন, সবচেয়ে দামি বাড়িগুলোই ছিল এই দৌড়ে বিজয়ী।
সরবরাহ কম থাকা সত্ত্বেও ‘হেজরো এক্সক্লুসিভ প্রপার্টিজ’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা গ্যারি কুপার বলেন, বিলাসবহুল সম্পত্তি যারা কিনছেন তাদের অনুপ্রেরণা সাধারণ ক্রেতাদের চেয়ে আলাদা।

















